লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় দুর্গম চর আবদুল্লাহ ও তার আশপাশের চরাঞ্চলের মানুষের জরুরি চিকিৎসার সুবিধার্থে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল একটি ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স। মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এসব চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের দুর্যোগ কিংবা আকস্মিক অসুস্থতায় হাসপাতালে পৌঁছানোর একমাত্র ভরসা ছিল এটি। কিন্তু সরকারের এই উদ্যোগ আজ চরম অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার শিকার।

চালকের বেতন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও চালনা খরচ মিলিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ের এই ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সটি গত তিন বছর ধরে একটি খালে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পরিচর্যার অভাবে সচল নৌযানটি এখন রূপ নিয়েছে লোহার স্তূপে।

একদিনের জন্যও রোগী পরিবহন করা হয়নি

স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সটি আসার পর থেকে চরের কোনো অসুস্থ মানুষের সেবায় এক দিনের জন্যও ব্যবহার করা হয়নি। চালুর পরপরই এটি সাধারণ মানুষের চিকিৎসার বদলে ব্যবহৃত হতে থাকে রাজনৈতিক কাজে। পরবর্তীতে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে এটি খালপাড়ে এনে ফেলে রাখা হয়। এরপর আর কেউ এর খবর নেয়নি।

ক্ষোভ ও হতাশা চরাঞ্চলবাসীর

চিকিৎসা না পেয়ে বছরের পর বছর ধরে কষ্ট পাচ্ছেন লক্ষ্মীপুরের চরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। স্থানীয়রা জানান, ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সটি সচল থাকলে মুমূর্ষু রোগীদের জীবন বাঁচানো সহজ হতো। অবহেলায় সরকারি সম্পদের এমন অপচয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে চরের বাসিন্দারা বলেন, ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সের বিকল্প হিসেবে সরকারের উচিত অবিলম্বে এই নৌরুটে নিয়মিত 'সী-ট্রাক' বা নির্ভরযোগ্য কোনো নৌযান চালু করা। একই সাথে চরে নিয়মিত মেডিকেল টিম ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের দাবি জানান তারা।

তদন্ত ও শাস্তির আশ্বাস

সরকারি এই প্রকল্পের অনিয়ম ও অবহেলার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, "কার বা কাদের স্বার্থে প্রকল্পটিতে এমন অবহেলা করা হয়েছে তা দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টির সুনির্দিষ্ট তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

মানবিক উদ্দেশ্যে কেনা এই ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সটি চরের কোনো মানুষের প্রাণ বাঁচাতে পারেনি, উল্টো খালের জলে পড়ে থেকে এখন নিজেই উদ্ধারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।

 

তথ্যসূত্রঃ Ekattor TV