দেশের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করতে স্থানীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ইলেকট্রিক অ্যাম্বুলেন্স চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় দ্রুত রোগী পরিবহন নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
গত ৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্থানীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইলেকট্রিক অ্যাম্বুলেন্স উন্নয়ন বিষয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জানানো হয়, মানুষের দোরগোড়ায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে একটি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশে তিন স্তরের অ্যাম্বুলেন্স সেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এর মধ্যে গ্রাম থেকে উপজেলা, উপজেলা থেকে জেলা এবং জেলা থেকে রাজধানীতে রোগী পরিবহনের জন্য আলাদা ধরনের অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, স্থানীয়ভাবে অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করা গেলে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং তুলনামূলক কম খরচে আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এসব অ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন সাপোর্ট, জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা থাকবে।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থা, গ্রামীণ সড়কব্যবস্থা এবং রোগী পরিবহনের বাস্তব চাহিদা বিবেচনায় নিয়েই এসব ইলেকট্রিক অ্যাম্বুলেন্সের নকশা তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। উদ্যোগটি সফল হলে দেশের জরুরি রোগী পরিবহন ব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও সংগঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সুরক্ষা অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস মনে করে, জরুরি মুহূর্তে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দেশে আধুনিক, সহজলভ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা গড়ে তোলার এমন উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
তথ্যসূত্র: The Business Standard

